নবীগঞ্জ উপজেলায় কারেন্ট ছিল না গতকাল প্রায় ১৮ ঘন্টার ও বেশি সময়।

নবীগঞ্জ উপজেলায় কারেন্ট ছিল না গতকাল প্রায় ১৮ ঘন্টার ও বেশি সময়।
নবীগঞ্জে ১৮ ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎহীনতা, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
রিপোর্ট: PressX News
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, গতকাল প্রায় ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং জরুরি সেবাতেও দেখা দেয় নানা সমস্যা।
সকাল থেকে শুরু হওয়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকায় মানুষের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষোভ ও অসন্তোষ। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে পানির সংকট তৈরি হয়। অনেক পরিবার মোটর দিয়ে পানি তুলতে না পারায় দৈনন্দিন কাজেও সমস্যায় পড়েন।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে বিপাকে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে ঘরবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে কিংবা বিদ্যুৎ আছে এমন এলাকায় গিয়ে সময় কাটান।
শুধু বাসাবাড়ি নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। বিভিন্ন দোকানপাট, রেস্টুরেন্ট, ফার্মেসি ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎনির্ভর যন্ত্রপাতি চালাতে না পারায় অনেক ব্যবসায়ীকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্যও পরিস্থিতি ছিল বেশ কঠিন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতে পারেনি। বিশেষ করে যারা রাতে পড়াশোনা করেন, তারা আলো ও চার্জের সমস্যায় পড়েন। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিভিন্ন সময় স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলেও এবার দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একটি উপজেলায় কেন এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে এবং এর কারণই বা কী?
বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের সদস্য কিংবা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় অনেককে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজ ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রে সংরক্ষিত পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
নবীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ জানার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পেছনে মূল কারণ কী? কোথাও কি লাইনে ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা অন্য কোনো কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে? আর যদি পূর্বপরিকল্পিত কোনো কাজের কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষকে আগে থেকে জানানো হয়েছিল কি না—সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের ক্ষেত্রে অন্তত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার সম্ভাবনা থাকলে আগেই গ্রাহকদের জানানো হলে তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারতেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ এবং কতক্ষণ কোন কোন এলাকায় সরবরাহ বন্ধ ছিল—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা জরুরি। কারণ বিদ্যুৎ সরবরাহের কারিগরি সমস্যা, রক্ষণাবেক্ষণ অথবা অন্য কোনো কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকলে সেটি পরিষ্কারভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
নবীগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেবে এবং ভবিষ্যতে যেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রায় ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আবারও সামনে এনেছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা। এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা—এই দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ কী এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়।
নবীগঞ্জ থেকে PressX News-এর জন্য প্রতিবেদন।




