অর্ধেক দামের সরকারি এলপিজি যায় কোথায়।

৭৭৭ টাকার সরকারি এলপিজি উধাও, বেসরকারি সিলিন্ডারে বিক্রি ২২০০ টাকায়!
ভর্তুকির গ্যাস বেসরকারি বাজারে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, বছরে ১৫০ কোটি টাকার অনিয়মের আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক | PressX News
রান্নার জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত ভর্তুকিমূল্যের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১২ কেজির একটি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকা হলেও বেসরকারি বাজারে একই পরিমাণ গ্যাস কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। অথচ সরকারি বরাদ্দের গ্যাস সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এলপিজি উৎপাদন ও বিতরণব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি মূল্যে বরাদ্দ পাওয়া গ্যাসের একটি অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যাচ্ছে। পরে সেই গ্যাস বেসরকারি কোম্পানির সিলিন্ডারে ভরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।
বছরে লাখ লাখ সিলিন্ডার বিতরণের তথ্য
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি এলপিজি বিতরণের জন্য যমুনা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, পদ্মা অয়েল এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানিকে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সময়ে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সরাসরি এলপিজি সরবরাহের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি এই গ্যাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত ডিলার এবং সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দ ও বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে সাধারণ গ্রাহকের কাছে গ্যাস পৌঁছাচ্ছে না।
‘কাগুজে ডিলার’ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে তথাকথিত ‘কাগুজে ডিলার’ ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু অনুমোদিত ডিলারের বাস্তবে কার্যকর খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র কিংবা সাধারণ গ্রাহকদের কাছে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার উপযুক্ত নেটওয়ার্ক নেই।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ডিলার সরকারি মূল্যে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি না করে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন। পরে সরকারি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস নিয়ে বেসরকারি সিলিন্ডারে ভরার মাধ্যমে তা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের কার্যক্রমের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি ভর্তুকির সুফল প্রকৃত গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পাবে।
বছরে ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ
প্রতিবেদনে সরকারি ভর্তুকিমূল্যের এলপিজি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে বছরে অন্তত ১৫০ কোটি টাকার অনিয়ম বা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অঙ্কের হিসাব, গ্যাস সরিয়ে নেওয়ার প্রকৃত পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে ভর্তুকিপ্রাপ্ত পণ্য বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত বক্তব্যের ভিত্তিতে সরকারি এলপিজির উৎপাদন, বরাদ্দ, পরিবহন এবং বিক্রয়ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত ডিলারদের বাস্তব কার্যক্রম যাচাই, সিলিন্ডারভিত্তিক সরবরাহের হিসাব প্রকাশ এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য নির্ধারিত গ্যাস কোথায় যাচ্ছে, তা তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।
ভর্তুকির উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের জ্বালানি ব্যয় কমানো। সেই সুবিধা যদি প্রকৃত গ্রাহকের কাছে না পৌঁছে অন্য কোনো পক্ষের আর্থিক সুবিধায় পরিণত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষই।
PressX News-এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন—সরকারি মূল্যের এলপিজি সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, আর অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার দায় কার?




