জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে ঝুঁকি, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলো সবচেয়ে বিপদে

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ছে বাংলাদেশের উপকূলীয় জনপদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত অভিযোজন কৌশল না নিলে আগামী দশকে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে, আর এই ঝুঁকির তালিকায় সবচেয়ে ওপরের দিকে রয়েছে বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশগুলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে, যা দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার প্রকোপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। উপকূলীয় এলাকার কৃষিজমি লবণাক্ত পানিতে আক্রান্ত হয়ে ফসল উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকার ওপর। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দশকে লাখ লাখ মানুষ তাদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হবে, যাকে অনেকে ইতিমধ্যে 'জলবায়ু উদ্বাস্তু' হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
বৃষ্টিপাতের ধরনেও দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিকতা। কোথাও অতিবৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিচ্ছে, আবার কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরায় বিপর্যস্ত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। এই অনিশ্চয়তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।
তবে আশার কথা হলো, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণ সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন, বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসন, এবং ম্যানগ্রোভ বনায়নের মতো প্রকল্পগুলো ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বৈশ্বিক পর্যায়েও উন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন জরুরি। কারণ বাংলাদেশের মতো দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী হলেও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়ন ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করছেন পরিবেশবিদরা।




