১০ কোটি টাকার ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ, তদন্তে দুদক

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাত ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ ও ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে, তদন্তে নেমেছে দুদক।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে। বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে সেতুটির নির্মাণকাজ চলছিল।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল, যা দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা গোপনে কাজ পর্যবেক্ষণ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে রাতে রডের জায়গায় বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছিল মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সোমবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন। তিনি রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলেও এই কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না, কারণ এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের অধীনে পরিচালিত কাজ।
পরবর্তীতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে শোকজ করা হয় এবং একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার জেরে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বাসাইল থেকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এখন বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এলাকাবাসী ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




