খাবের তেলাপোকার দাপট! অখাদ্য বাটার দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে খাবার।

মেয়াদ ও লেবেলহীন বাটারে তৈরি হচ্ছিল খাবার, ডালডার ভেতরে মিলেছে পলিথিন আর ময়লা। কারখানার খামিতে মাছি, সংরক্ষণাগারে তেলাপোকার দাপট। ভোক্তার পাতে এভাবেই পৌঁছে যাচ্ছিল চট্টগ্রামের পরিচিত ব্র্যান্ড ফুলকলি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পণ্য। অভিযানে একের পর এক ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিরাপদ খাদ্য আদালত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরের বিভিন্ন খাদ্যপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে এ দণ্ড দেন নিরাপদ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। একই দিন শপিং ব্যাগ সুপারশপ ও কাহওয়া ক্যাফেকে আরও ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে একদিনে জরিমানা ১০ লাখ টাকা।
ফুলকলিতে যা পাওয়া গেল: অভিযানে দেখা যায়, কারখানার মেঝে ভাঙা, নোংরা ও পিচ্ছিল। টোস্ট পাউডার ও খামিতে মাছির বিচরণ, টোস্ট সংরক্ষণের জায়গায় তেলাপোকা। চানাচুর ও মটরভাজা ভাজা হচ্ছিল পোড়া তেলে। কেক-রুটির ডাইস ও খামিতে ময়লা জমে ছিল, আর মার্জারিন রাখা ফ্রিজের নিচে জমে ছিল পানি। মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পণ্য বাজারজাত করার দায়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড।
শপিং ব্যাগে ইঁদুরের বিষ ছিটানো খাবার: শপিং ব্যাগ সুপারশপে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মেজবানের রান্না হচ্ছিল, রান্নার তেলে ছিল ময়লা, আমদানি করা পণ্যে ছিল না যথাযথ লেবেল। খাদ্যপণ্যের সঙ্গে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল ইঁদুর মারার বিষ, মজুত ছিল পচা মরিচ। খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত কর্মীকে দিয়ে প্রস্তুত করানো হচ্ছিল মসলা। এ অপরাধে জরিমানা ৩ লাখ টাকা, অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
কাহওয়ায় কেকের ওপর মুরগির নখ: কাহওয়া ক্যাফেতে কেকের ওপর পাওয়া গেছে মুরগির নখ। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ও ময়লাযুক্ত খামি, খোলা ডাস্টবিন, মেয়াদোত্তীর্ণ বাকলাবাশির পাতি ও পচা বিটরুট মিলেছে। ম্যাঙ্গো ফ্লেভার ড্রিংকসকে কারসাজি করে ম্যাঙ্গো ড্রিংকস বলে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণার প্রমাণও পায় আদালত। জরিমানা ১ লাখ টাকা, অনাদায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
আইনি ধারা: বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মেট্রোপলিটন নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান ইসলাম জানান, ফুলকলি ও শপিং ব্যাগ সুপার শপকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৫৮ ধারায় মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর কাহওয়াকে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪-এর ১৯ ধারায় জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ টাকা।




