বৃন্দাবন চন্দ্র দাস: হবিগঞ্জে শিক্ষার বাতিঘর

শিক্ষা বার্তা
নিজে বেশি দূর পড়াশোনা করতে পারেননি, অথচ তাঁর অবদানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে হাজারো শিক্ষার্থী। হবিগঞ্জের শিক্ষার ইতিহাসে এমনই এক স্মরণীয় নাম বৃন্দাবন চন্দ্র দাস। ১৮৫০ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গল গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন অঞ্চলের অন্যতম বিত্তশালী ব্যবসায়ী। ১৯৩১ সালে মাত্র ৩৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে হবিগঞ্জ কলেজ। কিন্তু অর্থসংকটে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে এগিয়ে আসেন বৃন্দাবন চন্দ্র দাস। তিনি কলেজের জন্য ১০ হাজার টাকা দান করেন—৩ হাজার টাকা নগদ এবং ৭ হাজার টাকার জমি। তাঁর এই অবদান কলেজটিকে টিকে থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জানা যায়, তিনি মায়ের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু মায়ের ইচ্ছায় কলেজটির নাম রাখা হয় তাঁর নিজের নামেই—‘বৃন্দাবন কলেজ’। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়। ১৯৩২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এই মহান দানবীর। নিজের শিক্ষাজীবন সীমিত হলেও শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান তাঁকে অমর করে রেখেছে। বৃন্দাবন চন্দ্র দাস শুধু একজন দাতা নন, তিনি হবিগঞ্জের শিক্ষার ইতিহাসে এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষার আলো আজও আলোকিত করছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।




