আপনি কি মানেন জিন বা প্যারানরমাল কিছু সত্য আছে.? মেক্সিকো পুলিশের এই অফিসিয়াল ফাইল কেস টি পড়লে আপনার ধারণা বদলে যাবে।

আপনি কি মানেন জিন বা প্যারানরমাল কিছু সত্য আছে.? মেক্সিকো পুলিশের এই অফিসিয়াল ফাইল কেস টি পড়লে আপনার ধারণা বদলে যাবে।
২০০৪ সালের ১৬ জানুয়ারি, কনকনে ঠান্ডা এক গভীর রাত। ম্যাক্সিকোর নিউভো লিওনের শান্ত এক শহর গুয়াদালুপে তখন নিঝুম ঘুমে আচ্ছন্ন। কিন্তু কে জানত, সেই রাতের গা ছমছমে অন্ধকারের মাঝে টহলরত পুলিশ অফিসার লিওনার্দো সামানিয়েগো এমন কিছু একটার মুখোমুখি হবেন, যা তার পুরো জীবনটাই বদলে দেবে!
বিভিন্ন নিউজে পুলিশের ইন্টারভিউ অনুযায়ী ঘটনাটি যেভাবে এসেছে, রাস্তার পাশে ছিলো ডালপালা ছড়ানো একটা ঢাউস গাছ। হঠাৎ করেই সেখান থেকে ভারী কিছু একটা খসে পড়ল মাটির দিকে। কিন্তু শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটল ঠিক তখনই! জিনিসটা মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই আমাকে দেখে ফেলে এবং বাতাসের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থমকে তাকিয়ে থাকে, আমার কাছে মনে হয় যেনও সেই জিনিসটা অদৃশ্য কোনো শক্তি দিয়ে ভাসতে ভাসতে নিচে নেমে এলো।
হতভম্ব লিওনার্দো তখন কোনোমতে গাড়ির হাই-বিম হেডলাইটটা জ্বালালো! তখন ভয়ে তার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল! কারণ সেই জিনিসটা পরক্ষণেই গাড়ির ঠিক সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে! আলকাতরার মতো কুচকুচে কালো বিশেষ পোশাক পড়া, দেখতে কিছুটা নারীর মতো। সে তখন হেডলাইটের তীক্ষ্ণ আলো থেকে মুখ ঢাকতে চাইছিল।
ভয়ে কাঁপতে কাাঁপতে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অফিসার লিওনার্দোর আকুতি, "ওটা একটা মহিলার মতো দেখতে... কিন্তু মানুষ না! চোখ দুটো ঢাউস, একদম কুচকুচে কালো, কোনো চোখের পাতা নেই! চামড়াটা বিশ্রী তামাটে রঙের আর মুখটা... ওহ সৃষ্টিকর্তা, মুখটা দেখতে অমানুষিক আর বীভৎস!"
কিন্তু আতঙ্কের রেস তখনও তার বাকি ছিল! কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবটি বাতাসের বেগে হিংস্র গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল পুলিশের গাড়ির ওপর! সজোরে আঘাত করল সামনের গ্লাসে, কাঁচ ভেদ করে লম্বা লম্বা নখওয়ালা হাত দুটো দিয়ে গ্লাসে এমন ভাবে আঘাত করতে লাগলো, যেনও মেরে ফেলতে চাইল লিওনার্দোকে!
প্রাণ বাঁচাতে লিওনার্দো হুট করে গাড়ি রিভার্স গিয়ারে ফেলে এক্সিলারেটরে জোরে চাপ দিলেন, ওয়্যারলেসে পাগলের মতো সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে লাগলেন। কিন্তু সেই পিঠ-শিউরে-ওঠা অশুভ সত্তা ছাড়ার পাত্র নয়! রাক্ষসীর মতো গাড়ির বোনটে আঁকড়ে ধরে গ্লাসে নখ দিয়ে আঁচড় কাটতে থাকল।
রাস্তার গলিটার শেষ মাথায় পৌঁছাতেই আর সামলাতে পারেননি লিওনার্দো নিজেকে! ভয়ে, আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি!
পরদিন সকালে উদ্ধার করা হয় লিওনার্দোকে। ঘটনা শুনে সবাই ভেবেছিল পুলিশ অফিসার মনে হয় ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন তাই ভুলভাল এইসব দেখেছেন, নয়তো কোনো ড্রাগস নিয়েছিলেন! কিন্তু হাসপাতালে নিবার পর তার ক্লিনিক্যাল টেস্ট, টক্সিকোলজিক্যাল রিপোর্ট এবং সাইকোলজিক্যাল ইভালুয়েশন বা মানসিক পরীক্ষা করার পর ডাক্তার আর তদন্তকারীরা চোখ কপালে তুললেন! রক্তে কোনো নেশাদ্রব্য ছিল না, না ছিল মানসিকভাবে অসুস্থতার কোনো প্রমাণ। অফিসার লিওনার্দো একদম সুস্থ মস্তিষ্কেই ঘটনাটি রিপোর্ট করেছিলেন!
এই ঘটনা সেই সময় ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। প্রশ্ন উঠে তাহলে সেদিন রাতের আঁধারে গাছ থেকে নেমে আসা সেই কালো অশুভ সত্তাটি আসলে কে ছিল? কোনো জ্বীন? ভিনগ্রহের প্রাণী? নাকি অন্ধকারের কোনো প্রাচীন অভিশাপ, যা আজও ঘুরে বেড়ায় নির্জন রাতের রাস্তায়? উত্তর আজও মেলেনি...




