এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বাংলাদেশে, রান্নার গ্যাসেই বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের!

এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বাংলাদেশে, রান্নার গ্যাসেই বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের!
রান্নার চুলা জ্বালাতে প্রতিদিনই প্রয়োজন হয় গ্যাস। কিন্তু সেই গ্যাসের দামই যদি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে সংসারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এলপিজি বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের বাজারমূল্য নিয়ে এখন এমনই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে এলপিজির দাম সবচেয়ে বেশি—এমন তথ্য সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের জ্বালানি বাজার।
সর্বশেষ নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি। এর আগে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানেই ভোক্তাদের বাড়তি গুনতে হচ্ছে ২২৩ টাকা।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের এলপিজির দামের ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রকাশিত মূল্যতথ্য অনুযায়ী, ভারতের কলকাতায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের সমপরিমাণ এলপিজির দাম বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। একইভাবে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানেও এলপিজির দাম তুলনামূলকভাবে কম বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমদানিনির্ভর এই জ্বালানির দাম বাংলাদেশে এত বেশি হওয়ার কারণ কী?
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা, পরিবহন ব্যয়, জাহাজভাড়া, সংরক্ষণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার নানা জটিলতা দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের সংসারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য রান্নার গ্যাসের বাড়তি খরচ হয়ে উঠছে নতুন আর্থিক চাপ। মাসের বাজেটে খাবার, বাসাভাড়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে এখন বাড়তি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে জ্বালানি খরচকেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, আমদানি ও সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে।
রান্নার গ্যাস কোনো বিলাসিতা নয়, এটি লাখো পরিবারের নিত্যদিনের প্রয়োজন। তাই এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষকে কেন বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে, সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।
এলপিজির দাম কমাতে কার্যকর উদ্যোগ কবে—সেই অপেক্ষায় দেশের সাধারণ ভোক্তারা।




