টিকটকের প্রভাবে ঝুঁকিতে কিশোর-কিশোরীরা, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের

জনপ্রিয় শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য, মনোযোগ ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানাচ্ছেন গবেষক ও মনোবিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সচেতন ব্যবহার ও পারিবারিক তত্ত্বাবধানই এই ঝুঁকি কমানোর মূল চাবিকাঠি।
বিশ্বজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর একটি টিকটক। ছোট ছোট ভিডিও, সহজ বিনোদন আর দ্রুত কনটেন্ট বদলানোর সুযোগ থাকায় স্বল্প সময়েই এটি তরুণ প্রজন্মের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন গবেষণা ও মনোবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এই প্ল্যাটফর্মের অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর বয়সীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, টিকটকের অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি, যা ব্যবহারকারীকে ক্রমাগত স্ক্রলিংয়ে ব্যস্ত রাখে। এতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানোর প্রবণতা তৈরি হয়, যা ঘুমের অভ্যাস, পড়াশোনায় মনোযোগ ও সামগ্রিক দৈনন্দিন রুটিনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে টানা স্ক্রলিং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আত্মবিশ্বাস ও শরীর নিয়ে ধারণার ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটির প্রভাব লক্ষণীয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফিল্টার-নির্ভর ও অতিরঞ্জিতভাবে সাজানো ভিডিও দেখে অনেক কিশোর-কিশোরী নিজেদের চেহারা, শরীর বা জীবনযাত্রা নিয়ে তুলনা করতে শুরু করে, যা আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া কনটেন্টে লাইক, কমেন্ট ও ফলোয়ারের সংখ্যা নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগের ধরনেও পরিবর্তন আসছে বলে মত দিচ্ছেন শিক্ষাবিদরা। সরাসরি বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিবর্তে অনলাইন কনটেন্টে সময় দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যা বাস্তব জীবনের সামাজিক দক্ষতা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি অনেক বিশেষজ্ঞ এটাও স্বীকার করেন যে, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে টিকটক শিক্ষামূলক কনটেন্ট, সৃজনশীলতা প্রকাশ ও নতুন দক্ষতা শেখার একটি মাধ্যমও হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মনোবিজ্ঞানীরা অভিভাবকদের প্রতি কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সন্তানের স্ক্রিন টাইম নির্দিষ্ট সময়ে সীমাবদ্ধ রাখা, পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং সন্তানের সঙ্গে অনলাইন অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত কথা বলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়ার চেয়ে সচেতন ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারই কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।




