বারবার ভুলে যান? ভুলে যাওয়ার মুহূর্তে কুরআনের এই ছোট্ট আয়াতটি হতে পারে আপনার প্রশান্তির উৎস!

বারবার জিনিস ভুলে যান? ভুলে যাওয়ার মুহূর্তে কুরআনের এই আয়াতটি মনে রাখুন
চাবি কোথায় রাখলাম, ফোনটা কোথায়, কাকে কী বলার কথা ছিল—এমন ছোটখাটো ভুলে যাওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পরিচিত ঘটনা। কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে থাকে না, আবার কখনো প্রয়োজনীয় জিনিস কোথায় রেখেছি, সেটিও খুঁজে পাই না। এমন পরিস্থিতিতে অস্থির না হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করার শিক্ষা দিয়েছে পবিত্র কুরআন।
আল্লাহ তাআলা সূরা আল-কাহফের ২৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন—
وَاذْكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ
উচ্চারণ: ওয়াযকুর রাব্বাকা ইযা নাসীত।
অর্থ: যখন তুমি ভুলে যাও, তখন তোমার রবকে স্মরণ করো।
তবে এই আয়াতের ব্যাখ্যা বুঝতে এর আগের আয়াতের প্রসঙ্গও জানা জরুরি। সূরা আল-কাহফের ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াতে ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার কথা বলার সময় আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করা এবং ইনশাআল্লাহ বলতে ভুলে গেলে মনে পড়ার পর আল্লাহকে স্মরণ করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
তাফসির ইবনে কাসিরে ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবুল আলিয়া, হাসান বসরি (রহ.) এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যায় ইনশাআল্লাহ বলতে ভুলে যাওয়ার পর মনে পড়লে তা বলার বিষয়টি এসেছে।
অন্যদিকে, আল্লাহর স্মরণে অন্তরের প্রশান্তি লাভের বিষয়টি পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।
তাই পরবর্তী সময়ে কোনো কিছু ভুলে গেলে অস্থির না হয়ে একটু থামুন। আল্লাহকে স্মরণ করুন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ কিংবা আল্লাহু আকবার পাঠ করুন। এরপর শান্ত মনে আবার মনে করার চেষ্টা করুন।
তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো জিকির পাঠ করলে হারিয়ে যাওয়া জিনিস অবশ্যই মনে পড়বে—এমন কোনো নিশ্চয়তা এই আয়াতে দেওয়া হয়নি। বরং এখানে মূল শিক্ষা হলো আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল থাকা।
ভুলে গেলে শুধু খুঁজবেন না, আপনার রবকেও স্মরণ করুন।
তথ্যসূত্র: ১. পবিত্র আল-কুরআন, সূরা আল-কাহফ, আয়াত ২৩–২৪। ২. তাফসির ইবনে কাসির, সূরা আল-কাহফ, আয়াত ২৩–২৪। ৩. পবিত্র আল-কুরআন, সূরা আর-রাদ, আয়াত ২৮।




