বিয়ের আগে ‘কুফু’ না মিললে দাম্পত্যে অশান্তি? সুখী সংসারের জন্য কেন জরুরি এই বিষয়টি।

প্রতিবেদক : মাহফুজুর রহমান।
‘কুফু’ বিবেচনার গুরুত্ব
ধর্মীয় মূল্যবোধ, আর্থিক সামঞ্জস্য ও জীবনযাপনের মানসিকতায় মিল থাকাকে দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিয়ের ক্ষেত্রে ‘কুফু’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী পরিভাষা। আরবি ‘কুফু’ শব্দের অর্থ সমকক্ষ, সমতুল্য বা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামী বিবাহের আলোচনায় বর-কনের দ্বীনদারি, চরিত্র, পারিবারিক পরিবেশ ও জীবনযাপনের সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানসিকতার সামঞ্জস্য থাকা দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। দুজনের চিন্তাভাবনা, জীবনযাপনের ধরন ও প্রত্যাশার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে তা কখনো কখনো সংসারে মতবিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে দ্বীনদারি ও ধর্মীয় অনুশীলনের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলে সংসার পরিচালনা, সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা এবং দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিয়ের আগে উভয়ের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আর্থিক সামঞ্জস্যও দাম্পত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক অবস্থা এক হওয়া জরুরি নয়; বরং আয়, ব্যয়, জীবনযাপনের প্রত্যাশা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকা প্রয়োজন। একজনের সামর্থ্যের তুলনায় অন্যজনের প্রত্যাশা অনেক বেশি হলে কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে খোঁটা দেওয়া ও তুলনা করার প্রবণতা থাকলে সম্পর্কে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
যেমন, স্বামীর আয় সীমিত হলেও স্ত্রী যদি সেই সামর্থ্যের মধ্যে জীবনযাপনে সম্মত থাকেন এবং দুজন মিলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন, তাহলে সংসার সুন্দরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। একইভাবে স্বামীরও স্ত্রীর মতামত, প্রয়োজন ও সম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিয়ের আগে পোশাক-পরিচ্ছদ, বাসস্থান, খাবার, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে দুজনের প্রত্যাশা আলোচনা করে নেওয়া ভুল-বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
তবে শুধু আর্থিক অবস্থা বা পারিবারিক মর্যাদার পার্থক্যের কারণে কোনো সম্পর্ককে অসফল ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা, দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা থাকলে ভিন্ন আর্থিক অবস্থানের মানুষও সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তুলতে পারেন।
দাম্পত্য জীবনে কুফুর মূল শিক্ষা হলো সামঞ্জস্যের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দেওয়া। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু বাহ্যিক অবস্থা বা আর্থিক সামর্থ্য নয়, বরং চরিত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানসিকতা এবং একসঙ্গে জীবন পরিচালনার সক্ষমতাকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তাই সব বিচ্ছেদের জন্য কুফুর অভাবকে দায়ী করা সঠিক নয়। তবে বিয়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি করা দাম্পত্য জীবনে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।




