অরুণাচলে ভারত-চীন সেনার মুখোমুখি অবস্থান! উত্তেজনা চরমে

PressX - ভারত প্রতিনিধি।
নয়াদিল্লি/ইটানগর, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইন্দো-তিব্বত বর্ডার পুলিশের (ITBP) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে অরুণাচলের একাধিক স্থানে দুই পক্ষের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত। সূত্রের খবর অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা ও মাজা এলাকায় এই মুখোমুখি অবস্থান শুরু হয়। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) সেনারা ভারতের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) ধারণার ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে উঁচু জায়গায় তাঁবু গেড়ে অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নিয়মিত টহলের সময় দুই পক্ষের সেনারা মুখোমুখি হয়। প্রথমে সংক্ষিপ্ত মুখোমুখি হওয়ার পর দুই পক্ষই সরে যায়, কিন্তু কয়েকদিন পর চীনা সেনারা আরও বড় সংখ্যায় ফিরে এসে তাঁবু স্থাপন করে। ITBP মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর রাজস্থানের আলওয়ারে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “গত কয়েকদিনে অরুণাচলের বেশ কয়েকটি স্থানে ফেস-অফ হয়েছে এবং এখনও চলছে। সেখানে আমাদের শৌর্য কমান্ডো টিম উদাহরণমূলক ভূমিকা পালন করেছে।” প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখনও কোনো সহিংস সংঘর্ষ হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করা হলেও সীমান্তের কয়েকটি পকেট অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়ে গেছে। ভারতীয় সেনা ও ITBP বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং যোগাযোগ চ্যানেল খোলা রাখা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রণালয় (MEA) বলেছে, চীনা বাহিনী যখন প্রতিষ্ঠিত টহল প্যাটার্ন থেকে সরে আসে তখনই এ ধরনের ঘর্ষণ তৈরি হয়। এদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট জবাব দাবি করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের “নীরবতা” নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অরুণাচলের এই অংশ দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে বিতর্কিত। চীন একে দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে। গালওয়ান উপত্যকার ঘটনার পর থেকে সীমান্তে উভয় পক্ষই অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও উভয় পক্ষের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা তীব্র। আগামী কয়েকদিনে নতুন কোনো উন্নয়ন ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপডেট চলছে...




