৯১% মুসলিমের দেশে হবিগঞ্জের নিয়োগ তালিকায় মুসলিম ৫৯%—বৈষম্য নাকি প্রার্থী-পরিসংখ্যানের প্রভাব?

গুরুত্বপূর্ণ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯১ শতাংশ মুসলিম। এরই মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার কয়েকটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের একটি পরিসংখ্যান ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯৯ জন নিয়োগপ্রাপ্তের মধ্যে মুসলিম ৫৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৫৯ শতাংশ; আর হিন্দু ৪১ জন, অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানেও দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। লাখাইয়ে ১৬ জনের মধ্যে মুসলিম ১৩ জন, নবীগঞ্জে ৪৩ জনের মধ্যে মুসলিম ১৮ জন, আজমিরীগঞ্জে ৩১ জনের মধ্যে মুসলিম ১০ জন, বানিয়াচংয়ে ৫ জনের মধ্যে মুসলিম ২ জন এবং হবিগঞ্জ সদরে ৪ জনের মধ্যে মুসলিম ৪ জন নিয়োগ পেয়েছেন। অর্থাৎ নবীগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জের তালিকায় হিন্দু প্রার্থীর সংখ্যা মুসলিম প্রার্থীর তুলনায় বেশি। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯১ শতাংশ মুসলিম হলেও এই নিয়োগ তালিকায় মুসলিমদের অংশ কেন মাত্র ৫৯ শতাংশ? এটি কি কোনো বৈষম্যের ইঙ্গিত, নাকি এর পেছনে রয়েছে আবেদনকারী সংখ্যা, মেধাক্রম, শূন্যপদ ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার অন্যান্য বাস্তব কারণ? তবে শুধু নিয়োগপ্রাপ্তদের ধর্মীয় পরিচয়ের অনুপাত দিয়ে বৈষম্য নিশ্চিত করা যায় না। প্রকৃত চিত্র জানতে হলে কতজন মুসলিম ও হিন্দু প্রার্থী আবেদন করেছিলেন, লিখিত পরীক্ষায় কারা কত নম্বর পেয়েছিলেন, মৌখিক পরীক্ষায় কী ফল হয়েছে এবং উপজেলা অনুযায়ী কতটি পদ ছিল—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। বিশেষ করে একই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিয়োগের চিত্র এতটা ভিন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ জনসংখ্যার অনুপাত এবং চাকরিতে নিয়োগের অনুপাত এক হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই; কিন্তু কোনো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলে তার কারণ জানার প্রশ্ন অবশ্যই উঠতে পারে। তাই এখন মূল প্রশ্ন একটাই—হবিগঞ্জের এই ৯৯ জনের নিয়োগ তালিকা কি কেবল প্রার্থী ও মেধাক্রমের স্বাভাবিক ফল, নাকি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এমন কোনো বিষয় রয়েছে যা সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন? আবেদনকারী থেকে শুরু করে চূড়ান্ত নিয়োগ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ পেলেই এর সঠিক উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে।




