ইমামরা সমাজের নেতৃত্ব দিলে ঘুষ-দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থাকবে না: জামায়াত আমির

মেহরাবের ইমামরা যেদিন সমাজেরও ইমাম হবেন, সেদিন সমাজ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, খুন ও গুমের মতো অপরাধ পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘সিরাতুন্নবী (সা.) হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফাইনালের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নবীন হাফেজদের সমাজের নেতৃত্বে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যাদের বুকে কুরআন ধারণ করার শক্তি দিয়েছেন, তারা যেন কেবল মেহরাবেই সীমাবদ্ধ না থাকেন। কুরআনের শিক্ষাকে সমাজে বাস্তবায়ন এবং আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মেহরাবের ইমামকে সমাজের নেতৃত্ব দিতে দেখতে চাই।’
হাফেজদের কাছে শাফায়াতের আর্জি
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাফেজদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, সবাই কুরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেননি। তাই হাশরের ময়দানে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াতের সুযোগ পেলে হাফেজরা যেন তাঁদেরও স্মরণে রাখেন।
তিনি বলেন, ‘সেই বিচারদিনে আপনারা যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফায়াতের সুযোগ পাবেন, সেই তালিকায় আমাদেরও একটু স্মৃতিতে ও বিবেচনায় রাখবেন। তাহলেই আজকের এই আয়োজন ও আমাদের আসা সার্থক হবে।’
ইসলামি আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
ছোটখাটো মতপার্থক্য ভুলে ইসলামি আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ভেদাভেদ পেছনে ফেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত আদর্শে ইসলাম ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহর আলোকে সমাজকে নতুন করে সাজাতে হবে। ইসলামি মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
কুরআন চর্চা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ
সমাজে কুরআনভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এ ধরনের সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন যত বেশি হবে, সমাজে কুরআনের চর্চাও তত বাড়বে। এর মাধ্যমে দ্বীন কায়েমের কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিচ্ছন্ন ও মানবিক ঢাকা গড়ার প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমিরকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর নেতৃত্বে একটি সহিহ-শুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও উন্নয়নমুখী ঢাকা মহানগরী গড়ে উঠবে বলে নগরবাসী প্রত্যাশা করে।
তিনি কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।




